Skip to main content

As-Sunnah Trust

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি

প্রশ্নোত্তর 5801

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক

প্রকাশকাল: 17 Dec 2021

প্রশ্ন

আসসালামুয়ালাইকুম! জনাব, সঠিক উত্তর দিয়ে একটু সাহায্য করবেন। আমার দুই বছর বয়সে আমার পিতা-মাতার বিচ্ছেদ ঘটে। পিতা-মাতার বিচ্ছেদের পর পিতা বাড়ি ঘর বিক্রি করে দেন। বাবা বর্তমানে মানুষের বাড়ি বাড়িতে থাকেন। ছোট বেলা থেকে নানার বাড়িতে আছি। আমার চাচা-ফুফু,মামা-খালা, ভাই-বোন এমনকি আপন বলতে কেউ নেই। এখন আমার বয়স ২৭ বছর,ছোট থেকে এখন পর্যন্ত মা আমাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেন। মায়ের চোখে আমি যেন শক্র। মা আমাকে একদম সহ্য করতে পারেন না।মা কথায় কথায় বলেন, আমি নাকি মায়ের জীবন নষ্ট করে দিয়েছি।২০১৩ সালে নানি মারা যান। নানি মারা যাওয়ার পর নানার রেখে যাওয়া সামান্য একটু জমি মা বিক্রি করেন। টাকা হাতে পাওয়ার পর মাকে অনেক করে বুঝিয়েছি যে, আমার বাড়ী-ঘর নেই এমনকি আপন বলতে কেউ নেই, আমাকে প্রবাস যেতে দাও।যাতে একটা বাড়ী-ঘর তৈরি করতে পারি।বাড়ী-ঘর ছাড়া সমাজে বেঁচে থাকা কঠিন, মামার বাড়িতে থাকায় অনেকে অনেক কথা বলে।মা প্রবাসের কথা নাকচ করে বলেছিলেন,তর টাকা থাকলে যায়,আমি দিতে পারবো না। ২০২০ সালে মামার বাড়ীর দুইজনকে নিজের বাড়ী-ঘর ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মায়ের সাথে কথা বলতে বলি,তাতেও কোনো লাভ হয়নি।শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে ১০/১৫ দিন অচেতন হয়ে থাকি, তাতেও মায়ের মন গলে নি। শুনেছি,জন্মের আগে মানে গর্ভ অবস্থায় মা নাকি আমাকে মারতে চেয়েছিলেন,জানি না কতটুকু সত্য। তবে, মায়ের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে তা সত্যি মনে হয়। ছোট বেলায় লেখাপড়ায় ফাস্ট ছিলাম, কিন্তু মায়ের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে লেখাপড়া করতে পারিনি। এমনকি মায়ের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে আজ আমি সোশ্যাল ফোবিয়া সহ নানা মানসিক ও শারীরিক রোগে আক্রান্ত। বর্তমানে আমি একটি মুদি দোকানে ৪ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করি।মা এখন বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন, কিন্তু আমি বিয়েতে রাজি নই। কারণ, এক মায়ের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন,দ্বিতীয় বাড়ী-ঘর নেই, এমনকি পৃথিবীতে কিছু নেই। এমতাবস্থায় আত্মহত্যা ছাড়া আমার কিছু করার নেই! এখন আমি কি করবো?  

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আত্মহত্যার কথা কখনো চিন্তাই করা যাবে না। কত বিপদ থেকে কত মানুষ উদ্ধার হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে। আপনি আল্লাহকে ভয় করে ইসলামের সকল আহকামগুলো যথাযথ পালন করুন এবং ধৈর্যের সাথে আল্লাহর কাছে দুআ করুন। আপনি ২৭ বছরেরর যুবক, তাহলে মুদি দোকানে এতো কম টাকায় চাকুরী করছেন কেন? অন্যান্য অনেক কাজ আছে যা থেকে আপনার আরো অনেক বেশী আয় করা সম্ভব, সে সব কোন একটি কাজ করুন। ২৭ বছরের মানুষকে কোন মা নির্যাতন করতে পারে, তাও আবার শারীরিক নির্যাতন, এটা মনে হয় খুব বাস্তবসম্মত কথা নয়। উপার্জন একটু বাড়লে উপযুক্ত পাত্র দেখে বিয়ে করে নিবেন, এটা মাকে বুঝাবেন। নিজস্ব বাড়ি ঘর থাকা হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য ভালো, কিন্তু পৃথিবীর বহু মানুষের নিজস্ব বাড়ি ঘর নেয়, কিন্তু এই চিন্তা করে তো তারা স্বেচ্ছোয় পৃথিবী ত্যাগ করে নি। সুতরাং সকল দু:খ কষ্ট ভুলে গিয়ে সামনে এগুনোর চেষ্ট করুন, উপার্জন বৃদ্ধির চেষ্টা করুন, ইসলামের সকল বিধি বিধান মেনে চলুন। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا (2) وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ যে আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার একটা রাস্তা বের করে দিবেন। এমন উৎস থেকে রিযিক দান করবেন যা কখানো সে কল্পনাও করে নি। যে আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। সূরা তলাক, আয়াত ২-৩। সুতরাং সবর আর ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাইতে থাকুন, ইনশাআল্লাহ একদিন আল্লাহ চাওয়ার চেয়ে বেশী কিছু দান করবেন। কুরআন এভাবেই আমাদের আদেশ করেছেন। ا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ হে ঈমানদাররা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। সুরা বাকারাহ, আয়াত ১৫৩।